চুয়েট-ক্যামেরার চোখে দেখা

আজকাল ফেসবুকে ঢু মারলেই বোঝা যায় পৃথিবীতে হঠাৎ করেই আলোকচিত্রীর সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে গেছে। ডিজিটাল ক্যামেরা তো আছেই,তবে সবচেয়ে বেশি চলছে মোবাইল ফটোগ্রাফি। ছবি তুলেই মার আপলোড! তবে কিছু সেয়ানা পোলাপানও আছে যারা ছবি তুলে সেগুলো পিকাসায় এডিট করে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট করে নিয়ে তারপর ফেসবুকে ‘উত্তোলন’ করে আর ভাব নেয় যেন এক বিরাট ফটোগ্রাফার! (আমিও উক্ত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত :P )

চুয়েটে পড়ছি প্রায় দু’বছর হয়ে গেল। বলতে দ্বিধা নেই,  দারুণ একটা ক্যাম্পাস পেয়েছি আমরা। অনেক ছবি তুলেছি ক্যম্পাসের। তার মধ্যে কিছু আমার ব্লগে তুলে রাখব বলে ভেবেছিলাম। ইহাই এই পোস্টের শানে নুযুল। ছবিগুলো খুব একটা উন্নত মানের নয়, আমার গরীব মোবাইলখানার ততোধিক গরীব ক্যামেরা দিয়ে তোলা। দেখুন, ভালো লাগে কিনা।

চুয়েটের বহুল ব্যবহৃত পথ,প্রতিদিন কতো ঘটনাই না ঘটে এখানে!

এ পথ দিয়ে ক্লাসে পৌঁছুই প্রতিদিন। ঢালু এক পিচঢালা পথ। (একদিন এর ঢালের মান বের করে নিতে হবে) দু’পাশে গাছে উপস্থিতিই পথের আসল সৌন্দর্য। ঢালু পথ বেয়ে উঠতে উঠতে কেও যদি ঢলে পড়ে তাহলে তাকে বিশ্রাম দেবার জন্য আমার আর্কিটেকচারের ছাত্রছাত্রীরা নানান ডিজাইনের বেশ কিছু বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছে (অযত্নে যেগুলোর এখন করুণ অবস্থা)। Read the full post »

জাফর ইকবাল স্যার, আমাদের ক্ষমা করুন

জাফর ইকবাল স্যারকে নিয়ে সম্প্রতি বেশ তর্কবিতর্ক চলছে ফেসবুক আর ব্লগে। দু পক্ষই যুক্তি কিংবা কুযুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান থেকে বেশ কয়েক ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। আমি এ বিতর্কে হয়ত নতুন কিছু যোগ করতে পারব না, তবে নিজের চিন্তাটুকু সবাইকে জানাতে চাই।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল; লেখক, গবেষক, সংগঠক, শিক্ষক, কলামিস্ট, সমাজকর্মী; আমাদের অনেকেরই প্রিয় মানুষ। তাঁর যে বিপুল পরিমাণ গুণগ্রাহী এদেশে ছড়িয়ে আছে তা তাঁর ঘোর নিন্দুকও অস্বীকার করতে পারবে না। আর এজন্যই ‘তাদের’ যতো ভয়। তাঁর মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বর্তমানে দেশে খুব কমই আছে। নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া মানুষ তাঁর খবর রাখে না; তিনি মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মাঝেই অসম্ভব জনপ্রিয়। তরুণদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া, যার সাথে শুধুমাত্র অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ স্যারের জনপ্রিয়তারই তুলনা চলে। একটি জরিপে বেরিয়ে এসেছে যে, তিনি বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে লেখক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জরিপে ৪৫০ জনের মধ্যে ২৩৫জনই (৫২.২২%) তাঁর পক্ষে মত দিয়েছে। [সুত্রঃ তান-জিনা হোসেন ও সিমু নাসের (ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ)। (ছুটির দিনে, দৈনিক প্রথম আলো: পৃ. ৫, ৬। ]

কিন্তু আমি জাফর স্যারের জনপ্রিয়তা বয়ান করতে বসিনি। যা বলতে চাইছি সেখানে আসছি। আমার মনে হয়, জাফর ইকবাল স্যারের অসম্ভব জনপ্রিয়তা তাঁর জন্য এসব সমস্যা ডেকে আনছে। তবে জনপ্রিয়তাই শুধু একমাত্র বিষয় নয়, আরো ব্যাপার আছে। খেয়াল করলে দেখা যায় জামাত-শিবির-হিযবুত তাহরীরের সমর্থক-গোষ্ঠী আর কর্মীরা, যারা উনাকে দু’চোখে দেখতে পারে না, তারাই সবচেয়ে বেশি মুখর হচ্ছে তাঁর নিন্দায়। কিন্তু কেন তারা স্যারকে পছন্দ করেনা? Read the full post »

কেন চোখ বন্ধ করে ভাবেন?

কাজটা  অনেকবারই করেছেন, আজ আবার করে দেখুন। কাওকে খুব জটিল কোনো প্রশ্ন করুন। ভাবুন তো তার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে? সবচেয়ে বড়ো সম্ভাবনা যেটা সেটাই বলি। তারা চোখ বন্ধ করে কিংবা আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকবে। এটাই এ লেখার পয়েন্ট। কেন বেশিরভাগ মানুষ জটিল কোনো বিষয় নিয়ে ভাবার সময় কিংবা প্রশ্নের উত্তর দেবার সময় চোখ বন্ধ করে ফেলে?

কিছুদিন আগেও এ প্রশ্নটির কোনো সদুত্তর বিজ্ঞানীদের কাছে ছিলো না। তবে ধীরে ধীরে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন প্রশ্নটির উত্তর আমাদের মস্তিষ্কে লুকিয়ে আছে। আসলে আমরা যখন পুরনো কোনো তথ্য কিংবা স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করি তখন মস্তিষ্কের যে অংশটি সক্রিয় হয়ে ওঠে ঠিক সেই অংশটিই আবার আমাদের চোখ দু’টো থেকে প্রাপ্ত ডাটা বিশ্লেষণ করে।

ব্যাপারটা একটু ব্যাখ্যা করি। যখন আমাদের চোখ খোলা থাকে অর্থাৎ যখন আমরা কোনো দৃশ্য দেখছি তখন Read the full post »

সৌদি আরবে ৮ বাংলাদেশীর শিরশ্ছেদঃ কিছু ভাবনা

সৌদি আরবে বাংলাদেশের ৮ নাগরিকের শিরশ্ছেদের ভিডিও দেখলাম। এখনো স্থির হতে পারিনি। অদ্ভুত এক চঞ্চলতা ঘিরে ধরেছে আমাকে।  ঘটনাটা ইন্টারনেটে পড়ার২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। ক্ষত এতক্ষণে শুকিয়ে আসার কথা। কিন্তু তা হয়নি। হয়নি তার অন্যতম কারণ ফেসবুক ও ব্লগের কিছু ধর্মবাদী। তাদের বক্তব্য আমাকে হতবাক করে ফেলেছে। সৌদি সরকারে এহেন ঘৃণ্য কাজের সমর্থনে তাদের যুক্তির বহর দেখে অসুস্থ বোধ করছি। পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে মন্তব্য করছে- ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’! তাদের মন্তব্যে সোনা ফলতে শুরু করেছে। আমিও এতো সব যুক্তিতে আক্রান্ত হয়ে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করে ফেলছি- হ্যাঁ! এটাই তো হবার কথা! তাদের সুমধুর যুক্তি আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে। একটা মন্তব্য আপনাদেরও বলি। আপনারাও বিশ্বাস করতে শুরু করুন।

“সৌদি আরবে সম্পূর্ণ না হোক বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শরিয়া আইন কার্যকর আছে৷ বিশেষ করে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সেখানে শরিয়া আইনে বিচার করা হয়৷ ইসলামী শরিয়া আইনে হত্যার পরিবর্তে হত্যা৷ অর্থাৎ হত্যার শাস্তি মৃত্যুদন্ড৷ সুতরাং যারা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও শরিয়া আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন তারা কিন্তু প্রকারান্তে কুরআন তথা আল্লাহর আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করছেন যা ঈমানের পরিপন্থি৷”  

হ্যাঁ, তাইতো! আমাদের তো ঈমান বজায় রাখতে হবে। তা না রাখলে কি আর সমাজে ‘শান্তি’ প্রতিষ্ঠা করা যাবে? Read the full post »

বাউল

জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন ইউনেস্কো ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে বিশ্ব মানবতার ধারক বলে স্বীকৃতি দেয়। ইউনেস্কো সেবার ৪৩ টি বাক ও বিমূর্ত ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা বাউল গানকে বিশ্ব মানবতার ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঘোষণা দিয়ে এর ভূয়সী প্রশংসা করে। এ ঘোষণার পর পৃথিবীর নানা দেশে বাউল গানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাউলদের নিয়ে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহই এ লেখার প্রেরণা যুগিয়েছে।

‘বাউল’ শব্দের নানা রকম অর্থের কথা গবেষকেরা বলে থাকেন। সাধারণত বাউল শব্দের অর্থ এলোমেলো, বিশৃঙ্খল, ক্ষ্যাপা ইত্যাদি। বাউলগণ সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্ন-ধারার জীবন যাপন করতেন বলেই হয়ত তাদের এই নাম। অনেক বাউল নিজেকে  পাগল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের অনেক গানেই বাউল, পাগল, পাগলা ইত্যাদি শব্দ খুঁজে পাওয়া যায়। তবে বাউল শব্দের উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি আছে। কেউ বলেন ‘বাতুল’ থেকে ‘বাউল’ হয়েছে, কারো মতে ‘বজ্রী’ থেকে কিংবা  ‘বজ্রকুল’ থেকে বাউল শব্দটি এসেছে। কেউ কেউ বলেন ‘আউল’ শব্দ থেকে ‘বাউল হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরো শতকে বাংলাদেশে বাউল মতের উদ্ভব হয়। যদিও বাউল শব্দটি ভারতবর্ষে অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। কিন্তু চৈতন্যের জন্মের পরই নির্দিষ্ট কিছু মতবাদ বহনকারী গোষ্ঠী অর্থে বাউল শব্দটি ব্যবহার শুরু হয়। চৈতন্যের উদ্ভবের পর বৈষ্ণব ও ইসলামী সূফী মতবাদের প্রভাবে গড়ে ওঠা আলাদা বেশ কিছু গোষ্ঠীর উদ্ভব সপ্তদশ শতকে ঘটে যারা একেবারেই সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিল, গ্রামে গ্রামে ঘুরে একতারা বাজিয়ে গান গেয়ে জীবনধারণ করত আর প্রচলিত ধর্মমতে যাদের ছিল অনাস্থা। এভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু দল বড়ো একটা গোষ্ঠীতে পরিণত হলে তাদেরকে মানুষ বাউল আখ্যা দেয়। তবে আরেক ধারার গবেষকদের মতে, Read the full post »